গত ১৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের নগরবাসির বিষফোঁড়া নামক হকার উচ্ছেদ হওয়ায় মানুষ ফুটপাত দিয়ে স্বাচ্ছন্দে চলাচল করছে। বিগত সময়ে হকার নিয়ে ভোগান্তিতে পোহাতে হয়েছে মানুষকে। ২০২৪ সনের ৫ আগষ্টের পরে শহরের কোন হকার থাকবে না বলে মনে করলেও আরও বেড়ে যায়। কিন্তু বিএনপির সরকার গঠনের দেড় মাস পরে নারায়ণগঞ্জ শহরের হকার উচ্ছেদ করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাড. সাখাওয়াত হোসেন খানের নেতৃত্বে এবং এমপি অ্যাড. আবুল কালামসহ নগরীর সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে হকার উচ্ছেদ করে প্রশংসায় ভাসেন।
তবে নগরীর ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ হওয়ার ৩য় সপ্তাহ চলমান রয়েছে। এই কয়দিনে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে চুরি ছিনতাইয়ে আতঙ্ক নিয়ে। কেননা ফুটপাতে হকারদের কারণে মানুষের ভীড় জমে থাকত, আর এতে করে অনেক মানুষ মার্কেটে এসে অনেকে চুরি আবার অনেকে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ায় নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরেন।
এদিকে ৩য় সপ্তাহে এসে হকাররা ফুটপাতে বসার জন্য নানা ভাবে পায়তারা করে আসছে। ইতোমধ্যে পুর্নবাসনের দাবী জানিয়ে নাসিক প্রশাসকের নিকট স্বারকলিপি প্রদান করেন। এছাড়া হকারদের পক্ষ নিয়ে বাম নেতারা চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছে বাম নেতারা। নাসিক উচ্ছেদকর্মী ও ভলেন্টিয়ারদের সাথে হকাররা চোর পুলিশ খেলছে।
কেননা ভলেন্টিয়ার সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবিরা হকারদের উচ্ছেদ করতে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে হকারর দৌড়ে পালায়। তারা চলে গেলে আবার ফুটপাতে বসে পড়ে। তবে আগের মত পুরো ফুটপাত দখল করতে না পারলেও দখলের জন্য পায়তারা করে আসছে। ফুটপাতের হকারদের বসা নিয়ে নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান সহ মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এমনকি হকারদের থেকে যারা চাঁদাবাজি করে বেড়াতেন তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর হওয়ার আহবান জানান প্রশাসনের প্রতি।
অপরিদেক অভিযোগ রয়েছে হকার থেকে রাজনৈতিক দলের নেতাদের একটি অংশ বিশাল অর্থের ফায়দা নিয়ে থাকেন। তাছাড়া বিগত সময়ে সাবেক এমপি সেলিম ওসমান মন্তব্য করেছিলেন ফুটপাতে হকারি করার আড়ালে অনেকেই মাদককারবারি করে বেড়াতেন। এমনকি এখানে একটি চক্র ছিনতাই, চুরিতে মেতে থাকতেন। কেননা ফুটপাতে হকারদের ভীড়ের মাঝে কেনাকাটা করতে আসা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে চুরি ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে ফিরে যেতেন। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ যাবৎ ফুটপাতে কিংবা সড়কে হকার বসতে না পারায় মানুষ চুরি ছিনতাই নিয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক কমেছে। নগরবাসি চান ফুটপাত কিংবা সড়কে যেন হকররা বসতে না পাড়েন।
ফুটপাতের পথচারী রিপন নামের এক ব্যক্তি জানান, শহরের ফুটপাত খালি থাকায় আমরা এখন আরামে হেঁটে চলাচল করতে পারছি। ফুটপাতে হকার বসায় মানুষের অনেক ভীড় জমে থাকে, তার সুযোগ নিয়ে চুরি ছিনতাই কারি করে বেড়াতেন একটি অপরাধ চক্র। এখন হকাররা না থাকায় আমরা এখন চুরি ছিনতাইয়ের আতঙ্ক থেকে মুক্ত আছি।
সচেতন মহল মনে করেন হকারীর আড়ালে অনেকেই নানা অপকর্ম করে বেড়ান । ফুটপাতে হকার বসা নিয়ে হত্যার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। যদিও অপকর্মের হোতারা অনেকে এখন পালিয়ে রয়েছে। তবে কিছু লোকজন হকারদের পক্ষে থাকলেও বেশিরভাগ লোকজন হকারদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী জানান সড়কে কিংবা ফুটপাতে যেন হকাররা বসতে না পারে। তাদেরকে যেন বিবি রোডের ফুটপাতে বসার কোন সুযোগ দেয়া না হয়।