শুভ হত্যায় অভিযুক্ত রানার সকল অপকর্মের রাজস্বাক্ষী আলী অধরা
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
নারায়ণগঞ্জ শহরের আলোচিত শুভ হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত এবং শুভ অপহরণ মামলায় আসামি আলি হোসেন কে এই আলী হোসেন? কখনো তার পরিচয় ছিল ডিসের লাইন ম্যান, পুলিশের সোর্স, , মাদককারবারীদের শেল্টারদাতা। এদিকে পুলিশের সোর্স পরিচয়কে পুঁজি করে সাংবাদিকতাকে এক কলঙ্কিত বেপরোয়া হয়ে উঠে আলী।
আওয়ামীলীগ শাসন আমলে শহরজুড়ে অটো রিকশার মধ্যে সাংবাদিক কার্ড লাগিয়ে প্রশাসনকে নামমাত্র মূল্যে ম্যানেজ করে লাল লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অন্যতম প্রবর্তক ছিলেন। কিন্তু ৫ আগষ্টের পর অটো কার্ড বাণিজ্যে ধস নামলে নারাণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত ইসলাম রানার আশ্রয় প্রশ্রয়ে জমি দখলের একটি ঘটনা রানার মাধ্যমে সংগঠিত করার প্রস্তাবের মাধ্যমে রানার সাথে সুসম্পর্কে জড়ান। সেই সাথে ধীরে ধীরে আলি হয়ে উঠেন রানার সকল অপকর্মের রাজস্বাক্ষী এবং সহায়ক। যার কারণে আলোচিত শুভ হত্যা এবং গুমের মামলায় জড়িয়ে এবার ফেঁেস যাচ্ছেন লম্পট আলী। এদিকে ২ এপ্রিল শুভ অপহরণ মামলায় আলীকে আসামি করা হলে পুরো অপহরণ মামলাকে বিতর্কিত করতে এবং কৌশলে খোদ নিজে ও প্রধান আসামি রানাকে নিরাপদে রাখতে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় আলী প্রচার করতে থাকেন বিশেষ পেশার একজন ব্যক্তিকে যেখানে অপহরণ মামলায় আসামি করা হয় এবং প্রধান আসামি করা হয় শাখাওয়াত ইসলাম রানার মত ব্যক্তিকে নিশ্চিয়ই মামলাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবি করে মামলা থেকে আলি এবং তার রক্ষক শাখাওয়াত ইসলাম রানার নাম গুটিয়ে নেয়ার পরিকল্পনায় ছিলেন। এরমধ্যেই গত ৫এপ্রিল শুভ অপহরণের নাটকীয়তার মধ্যে শুভর লাশ শনাক্ত করা হয় বেস্তে যায় আলির নীলনকশা।
সূত্র বলছে, আওয়ামীলীগ শাসন আমলে প্রথমে কাউন্সিলর বাবু ওরফে ডিস বাবুর লাইন ম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে ডিশ বাবুর সঙ্গ ত্যাগ করে কখনো হয়েছেন কথিত সাংবাদিক এবং পুলিশের সোর্স পরিচয় বহন করে বিভিন্ন সেক্টরে এসকল পরিচয় দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে বেড়াতেন। এছাড়া অসাধু কিছু সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে নামমাত্র মূল্যে বিশেষ পেশার কার্ড ব্যবহার করে নয়া মিশনে পা দেন। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কখনো সড়ক পথে চাঁদাবাজি। এছাড়া সাংবাদিকতার নামের অবৈধ অটো রিকশাকে বৈধতা দিতে সাংবাদিকতার কার্ডকে অটো চালকদের লাইসেন্সে পরিণত করেন। শহরজুড়ে হাজার হাজার অটো চালক/মালিকদের কার্ড দিয়ে মাসিক চাঁদা উত্তোলন করতেন।
এছাড়া যে সকল অটো চালক/মালিকরা তার কার্ড সংগ্রহ করতেন না তাদেরকে ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে ধরে নিয়ে ডাম্পিংয়ে নিয়ে তার কার্ড ব্যবহারে বাধ্য করে ডাম্পিং চার্জ হিসেবে পুলিশের মাধ্যমে ১০০০/১৫০০/২০০০টাকার বিনিময়ে আবার ছেড়ে দিতেন। আওয়ামী লীগ শাসন আমলে তার এই অপকর্মে দিব্বি পরিচালিত হলেও ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্টে আওয়ামীলীগ পতনের পর সাংবাদিকতার নামে সাংবাদিক কার্ডকে অটো চালকদের লাইসেন্সে পরিণত করার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। তখনই আশ্রয় নেন নারায়ণগঞ্জ শহরের আলোচিত নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক রানা।
এছাড়া রানাকে সকল অপকর্মের দিকে ধাবিত করার জন্য উঠে পড়ে লাগেন। রানাও তার কথা শুনতে শুনতে ভূমি দুস্যতা থেকে শুরু ডিস ব্যবসা,মাদক ব্যবসা, স্ট্যান্ড দখল, বাস কোম্পানী দখল, অটো প্লেট ব্যবসা এসকল কিছুর নিয়ন্ত্রক এবং হোতা বানান রানাকে। যার পরিপ্রেক্ষিতেই অপকর্ম করতে করতে ইসদাইর এলাকায় মাদক সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে হত্যা হওয়া শান্ত হত্যার মত ঘটনায় আলিসহ/বিএনপি নেতা রানা ফেঁসে যান। গত ২৫ মার্চ শুভর নেতৃত্বে তাঁর বাহিনীর সদস্যরা ফতুল্লার চাষাঢ়া রেললাইন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানার সাথে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ আধিপত্য বিস্তারে দ্বন্দ্ব থেকে রানার গ্যারেজ দখলের উদ্দেশ্যে হামলা চালান শুভ। সেই ঘটনার জের ধরে ২৯ মার্চ শুভর ওপর পাল্টা হামলা চালায় রানা ও তাঁর অনুসারীরা। সেদিনই শুভকে মারধর শেষে ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় ফতুল্লার ইসদাইর রেললাইন এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন ২১ বছর বয়সী যুবক শুভ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে ফতুল্লা মডেল থানায় শুভ অপহরণের মামলা করেন শুভর পরিবার। মামলার প্রধান আসামি করা হয় নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সাখাওয়াত ইসলাম রানাকে (৫১)। অন্যান্য আশামীদের মধ্যে আলী হোসেনকে আসামী করা হয়। তাঁদের মধ্যে সাব্বির, রাজ্জাক ও ওয়াসিম,লাল শুভকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চার জন গ্রেফতার হলেও এখনো গ্রেফতার হয়নি প্রধান আসামি শাখাওয়াত ইসলাম রানা এবং তার অন্যতম সহযোগী আলী। এদিকে অপহরণের মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে প্রধান আসামি রানাকে সেইফ করতে বহু নাটকীয়তার সৃষ্ট করতে চাচ্ছেছিলেন আলি। এর প্রক্কালেই রোববার ৫এপ্রিল সকালে শুভর পরিবারের লোকজন পুলিশের মোবাইলে তোলা লাশের ছবি দেখে তা শুভর লাশ শনাক্ত করেন বাবা সোহেল ও মা মাকসুদা বেগম।
অথচ, শুভ অপহরণের পর ৩০ মার্চ সকালেই মরদেহটি উদ্ধার হয় ফতুল্লা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকায়। তবে, তখন আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জাতীয় তথ্য বাতায়নে পরিচয় খোঁজার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবেই ৩১ মার্চ রাজউকের কবরস্থানে পুলিশের তত্ত্বাবধানে দাফন করা হয়। মূলত,শুভ মারধরের দিন রাতেই মারাযান যার কারণে তার লাশ পাওয়া অজ্ঞাত স্থানে। এদিকে লাশ শনাক্তের পর থেকেই প্রকাশ্যে থাকা প্রধান আসামী রানা এবং রানার সহযোগী আলি আত্মগোপনে চলে যান।
এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মিলন ফকির যুগের চিন্তাকে জানান, আমাদের তদন্তে উঠে এসেেেছ এই মামলায় আসামি পাপ্পুর সাথে পূর্ব থেকে ঘনিষ্ঠতা ছিল আলী হোসেনের। আলীর বিষয়ে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা।


