বিএনপির শেল্টারে দ্বিগুণ ক্ষমতায় মৌমিতা বাস
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
মৌমিতা বাস
মৌমিতা বাস সার্ভিস নারায়ণগঞ্জ থেকে চন্দ্রা রুটে চলাচল করা যাত্রিদের জন্য আশির্বাদ হয়ে আসলেও তা বহু বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য সবচেয়ে বড় ভোগান্তির কারণ হিসেবে চিহ্নিত। শহরবাসীর দীর্ঘদিনের অসহনীয় যে যানজটের সমস্যা তা সৃষ্টির অন্যতম কারিগর হিসেবে মৌমিতাকে চিহ্নিত করলে তা নিয়ন্ত্রণে আনা বড় কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের শেল্টারে দাপট ক্ষমতার জোর দেখালে ও এবার ও বিএনপির জোর দেখিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বাসটি। জানা গেছে, চাষাড়া প্রবেশের জন্য মৌমিতা বাসের অনুমোদন না থাকলে ও শহর দিয়ে বীরদর্পে চলছে ১২০ টির বেশি বাস। তা ছাড়া বর্তমানে কোন অনুমোদন নেই বললে ও চলে। তা ছাড়া মেট্রোহল স্ট্যান্ড বিগত ও বর্তমানে ও আশ্রয় স্থল হয়ে হিসেবে রয়েছে। যার ফলে সেখানে বেপরোয়াভাবে ১২০টি বাস ফেলে রেখে রাস্তা দখল করে খানপুরে ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এলাকায় যানযট সৃষ্টির ফলে হাসপাতালের এম্বুলেন্স চলাচলে বিঘ্ন ঘটার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মৌমিতা।
এদিকে বিগত দিনে ও বর্তমানে সামাজিক সংগঠনের একাধিক সদস্যরা তা নিয়ে আন্দোলনসহ দফায় দফায় বৈঠক করলে ও কোন সুরাহ হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেট্রোহল শ্রমিক ইউনিয়নসহ মিশনাপাড়ার কয়েকজন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এখানেই টিকিয়ে রেখেছে অনুমোদনহীন অবৈধ মৌমিতা পরিবহনকে।
সাম্প্রতিক বিগত দিনের মতোই নতুন করে মৌমিতা বাস নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। এদিকে গত শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে নাসিক প্রশাসকের সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এড. মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেছেন, “পরিবহন খাতে ‘মৌমিতা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন নেই, অথচ তারা মেট্রোসেবা পরিচালনা করছে। সম্প্রতি আরও কয়েকটি কোম্পানি যুক্ত হয়েছে, যাদের কোনো রুট পারমিট নেই। আপনাকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, পরিবহন সেকশন, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সম্পৃক্ত করে নেতৃত্ব দিতে হবে। আপনার সেই সক্ষমতা রয়েছে। স্থানীয় সরকার সঠিকভাবে কাজ করলে সমস্যাগুলো সমাধান সম্ভব।” যাকে ঘিরে ফের তোড়পাড় শুরু হয়েছে কার শেল্টারে এই অনুমোদনহীন মৌমিতা। ইতিমধ্যে মৌমিতা বাসের বেপরোয়া পনা ফের আলোচনায় আসতে যাচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, শহরে যানজট সৃষ্টি ছাড়াও মৌমিতার বিরুদ্ধে যাত্রি হয়রানি, যত্রতত্র বাস পার্কিং, ভাড়া নিয়ে যাত্রিদের সাথে অসদাচরণ সহ অভিযোগের অন্ত নেই। মৌমিতার চালকদের বিরুদ্ধেও অভিযোগের শেষ নেই। তাদের খামখেয়ালির জন্য ছোট বড় দূর্ঘটনা বাড়ছে। তা ছাড়া সাইনবোর্ড পর্যন্ত পরিবহনটির রুট পারমিট থাকলেও আইন অমান্য করেই প্রবেশ করছে শহরের কেন্দ্রবিন্দু চাষাঢ়া হয়ে মেট্রোহল এলাকায়। তাই এখন মনে হয় যেন শহরের মেট্রোহল এলাকাটি যেন মৌমিতা পরিবহনের গাড়িগুলোর দখলে।
নিজস্ব স্ট্যান্ড মনে করেই অবৈধভাবে প্রবেশ করে সড়কের মাঝখানেই পার্কিং করছে ও সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি করছে। কোন কাউন্টার নেই কিন্তু আবার কয়েকটি স্থানে অবৈধভাবে কাউন্টার বানিয়ে বাস থামিয়ে যেখানে সেখানে উঠানামানো করাছে যাত্রী। অপরদিকে যাত্রীদের সাথে খারাপ আচরণ মাত্রাতিরিক্ত করায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা। তা ছাড়া বর্তমানে মেট্রাহল এলাকা বলা চলে মৌমিতার পার্সোনাল স্ট্যান্ড। যা পুরোই মোটা অংকের চাঁদার মাধ্যমে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নিয়ন্ত্রণেই চলমান। তা ছাড়া যাকে ঘিরে সেই চাঁদার টাকা উঠাতে যাত্রীদের ভোগান্তি দিয়ে ৪৫ সিটের গাড়িতে যাত্রী নেয় ৭০ থেকে ৮০ জনের বেশি। তা ছাড়া বিগত দিনে থেকে ও আরো দ্বিগুন ক্ষমতা দেখিয়ে বেপারোয়া হয়ে উঠছে অবৈধ মৌমিতা।
এ বিষয়ে শহরের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ যুগের চিন্তাকে জানান, প্রতিদিন শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়া গোলচত্ত্বরে কয়েকটি স্পটে একাধিক বাস দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রেখে যাত্রী উঠায় মৌমিতা। ৫ থেকে ১০ মিনিট পর একটি বাস এসে যখন আরেকটির পিছনে দাড়ায় তখনই সামনে দাঁড়ানো বাসটি ঢাকার দিকে যাচ্ছে। তারপর আবারও পরবর্তী বাসটি দাঁড়িয়ে থাকে। এভাবে সারাক্ষন মৌমিতা বাসের একটি দাড়িয়েই থাকে এখানে। শুধু যে সান্তনা মার্কেটের সামনে এমনটা নয়। তারা খাজা মার্কেটের সামনেও একইভাবে দাঁড়িয়ে যানযটের সৃষ্টি করে। রাইফেল ক্লাবের সামনেও তারা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কৃত্রিম যানজটের সৃষ্টি করে।


