Logo
Logo
×

নগর জুড়ে

অটোরিকশায় নাকাল শহরবাসী

Icon

মেহেদী হাসান

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

অটোরিকশায় নাকাল শহরবাসী

অটোরিকশায় নাকাল শহরবাসী

Swapno

নারায়ণগঞ্জ শহরের গলার কাঁটা এখন অবৈধ মিশুক ও অটোরিকশা। দিন যত যাচ্ছে ততই এই নারায়ণগঞ্জ শহর মিশুক ও অটোরিকশা শহরে পরিণত হচ্ছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই শহরের প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তিনচাকার ব্যাটারি চালিত মিশুক ও অটোরিকশা। কিন্তু তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার আমলের  সেই পুরাতন লাইন্সেস নবায়ন করে ১৭ হাজার ৩শ ৪২টি রিকশার লাইন্সেস দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু পায়ে চালিত সেই রিকশা এখন কম থাকায় তা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে মিশুক ও অটো রিকশায়। তাও আবার নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তিন অঞ্চল সদর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জে। ১৭ হাজার ৩শ ৪২টি লাইন্সেস এর মধ্যে শহর অঞ্চলে প্রায় ৭হাজার গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে হলুদ রং এর। কিন্তু শহর অঞ্চলে বর্তমানে ৭ হাজারের জায়গায় ৭০হাজার গাড়ি চলাচল করছে অবৈধ ভাবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একটি ভয়ংকর চক্র জালিয়াতি করে এই অবৈধ গাড়ি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। একটি বৈধ মিশুকের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার কপি করে অন্তত ১০ থেকে ১৫টি গাড়িতে ব্যবহার করা হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং নাম্বার প্লেট হুবহু নকল হওয়ায় সাধারণ মানুষ তো বটেই, এমনকি ট্রাফিক পুলিশের পক্ষেও আসল-নকল চেনা প্রায় অসম্ভব। আর এর মধ্যে বড় চক্রটি হচ্ছে কিছু প্রিন্টিং প্রেস এর অসাধু ব্যবসায়ী। এছাড়াও কিছু গ্যারেজ মালিককে ম্যানেজ করে এই চক্রটি প্রতিদিন শত শত গাড়ির নাম্বার প্লেট নকল করে আসছে।



এদিকে শহরের তীব্র যানজটে দিশে হারা নগরবাসী। শহরে দুই নম্বর গেইট থেকে চাষাড়া পর্যন্ত প্রতিদিনই থাকে তীব্র যানজট। দশ মিনিটের সড়ক এখন পার হতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগে। কিন্তু সড়কের যানজট নিরসনে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে পুলিশ প্রশাসক, নাসিক, চেম্বার অব কমার্স ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। শহরের বিভিন্ন মোড়গুলোতে অবৈধ অটোরিকশা ও মিশুকের বিরুদ্ধে চেক পোস্ট বসিয়ে আটকাতে পাচ্ছে না প্রশাসন।



এদিকে যারা প্রতি বছর সিটি কর্পোরেশনকে ট্যাক্স দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করছেন, সেই প্রকৃত মালিকরা এখন দিশেহারা। বৈধ মালিকদের অভিযোগ, আমরা টাকা দিয়ে লাইসেন্স করি, আর জালিয়াতরা এক প্লেটে দশ গাড়ি নামিয়ে আমাদের রুজি নষ্ট করছে। অন্যদিকে, ৫ মিনিটের রাস্তা পার হতে নগরবাসীর সময় লাগছে ১ ঘণ্টা। অসুস্থ রোগী নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সও আটকা পড়ছে এই মিশুক জটে। অটো রিকশা মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, এই সমস্যার একমাত্র সমাধান হলো ডিজিটাল নাম্বার প্লেট। যা নকল করা সম্ভব নয়। রংপুরসহ দেশের কিছুশহরে এটি সফলভাবে চালু হয়েছে। নাসিক যদি দ্রুত ডিজিটাল প্লেট এবং কিউআর কোড (সম্বলিত স্মার্ট কার্ড প্রদান করে, তবে অবৈধ ৫০ হাজারেরও বেশি গাড়ি মুহূর্তেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন